সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়: এসআইআর নিয়ে রাজ্য-কমিশন বৈরিতা তুঙ্গে। অথচ এসআইআর প্রক্রিয়াকে সফল করতে রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকেই পাখির চোখ করতে চায় নির্বাচন কমিশন। স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে মৃত ভোটার অন্যতম অন্তরায়। আর সেই বাধা দূর করতে একাধিক প্রযুক্তিগত পদ্ধতির পাশাপাশি রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প “সমব্যথী” কর্মসূচির সহযোগিতা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃত ভোটার খুঁজতে নির্বাচন কমিশন এই প্রকল্পের সহযোগিতা নিতে ইতিমধ্যেই জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে।
রাজ্য সিইও ডক্টরের পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির জন্য যাবতীয় পরিকল্পনা নেওয়া সত্ত্বেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের গড়মিলের কারণে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যাবে কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু সরকারের মৃতদেহ সৎকার সংক্রান্ত সমব্যথী সামাজিক প্রকল্প রয়েছে সেক্ষেত্রে সেই প্রকল্পের তথ্যের মাধ্যমে মৃত ভোটারের তথ্য ভেরিফিকেশন অনেকটাই সুবিধাজনক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সে কারণেই নির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে রাজ্য সরকারের এই সামাজিক প্রকল্পের তথ্যকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের। রাজ্য সরকারের ‘ সমব্যথী ‘ কর্মসূচির অধীনে কতজন এই সুবিধা নিয়েছে তা দেখে তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় যাতে কোন মৃত ভোটার না থাকে তা নিশ্চিত করতেই জেলাগুলিকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিইও দপ্তর।
মূলত শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করতে এই কর্মসূচির অধীনে ২০০০ টাকা করে মৃতের পরিবারকে দেয় রাজ্য সরকার। তার জন্য শ্মশান ঘাট, বিভিন্ন কবরস্থান সহ স্থানীয় মসজিদ, পঞ্চায়েত বা পুরসভা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকদের। শেষ কয়েক বছরের সব তথ্য এক জায়গায় তৈরি করতে হবে। মৃত ভোটার আছে কি নেই তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ফোন কল,ভিডিও কল করে তা নিশ্চিত করতে হবে। অথবা এর জন্য জেলাশাসকরা জেলায় জেলায় এনিয়ে আধিকারিকদের নিয়ে আলোচনা সভা করুক বলেও নির্দেশিকায় জানিয়েছে কমিশন। জেলায় জেলায় আগামী ১০ দিনের মধ্যে মৃত ভোটারের তালিকা তৈরি করতে হবে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের।