Share it

শ্যামল মুখোপাধ্যায়, নবান্ন: দুয়ারে সরকারের পর এবার ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’। বরাদ্দ প্রতি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা। ব্যস কেল্লা ফতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যেয়ের (Mamata Banerjee) এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শহর থেকে গ্রামে তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সব বিরোধী দলকে টেক্কা দিতেই এই “মাস্টার স্ট্রোক” দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ‘কী করবি কর, মাথা কুটে মর’- এই ছড়া কেটে শহর থেকে গ্রামে বহু মানুষ বিরোধীদের উদ্দেশে টিপ্পনি কেটেই চলেছেন। রীতিমতো দিশেহারা বিরোধীরা। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী যখন ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প চালু করে দেন তখনই রীতিমতো চিন্তিত হয়ে পড়েছিল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি, সিপিএম তথা বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। ঘটনার আকস্মিকতায় উদ্বিগ্ন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মিটিং, মিছিল, পথসভা, জনসভা ঘোষণা করতে শুরু করে দিলেন, “আমরা ক্ষমতায় এলেই এইসব প্রকল্পের বরাদ্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেব।” বুদ্ধিমান বিরোধী দলনেতা খুব ভালো করেই জানেন মুখ্যমন্ত্রীর এইসব প্রকল্পের বিরোধিতা করা হলে বিজেপি-র ভয়ানক ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণা করেই চলেছেন তিনি।

বিরোধীদের একটাই সমস্যা তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছেই বরাদ্দের পুস্তিকাগুলি নেড়েচেড়েই দেখেন না। রাজ্য বিধানসভায় আমি বিরোধীদের সঙ্গে একান্তে কথা বলে স্পষ্ট জেনেছি এবারেও “গিলেটিন”-এ পাস হওয়া বাজেটের বইগুলো শাসকের বইগুলো কেউ খতিয়েই দেখেননি। তা যদি দেখতেন তাহলে অনেক আগেই বুঝতে পারতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবারের রাজ্যসভার বাজেট অধিবেশনের মধ্যেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন।

গ্রামের মূল শক্তি পঞ্চায়েতের বাজেটে এবার যেভাবে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে আগে তা কখনও ভাবাও যায়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে অর্থাৎ নির্বাচনী বছরে পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৪,১৩১,৬৫ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ হাতে পেয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী যেভাবে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে বেড়াচ্ছেন উন্নয়নের একগুচ্ছ ডালি নিয়ে তাতে বিরোধীদের বিপদ যে বাড়ছে এটা বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। শুধু কী পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, শহরাঞ্চলকেও বঞ্চিত রাখেনি ২০২৫-এর ১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বিধানসভার অর্থ দপ্তরের বাজেটেও। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৩,৩৮১.৬৮ কোটি টাকা। এই টাকা হাতে নিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম যে রাজ্যের পুরনিগম, পুরসভা এবং উন্নয়ন পর্যদের মাধ্যমে উন্নয়নের ধুন্দুমার কাণ্ড বাধিয়ে দেবেন বা ইতিমধ্যেই দিয়েছেন তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিভিন্ন টিভি শো-গুলিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে হাউহাউ করে চেঁচিয়ে বিরোধীরা আরও সময় নষ্ট করুন। সেই সুযোগে গ্রাম থেকে শহরে দরজায় দরজায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়ে তুলছেন রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী।

শুধু গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাই নয়, কৃষি অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে কৃষি বিভাগের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১০,০০০.৭৯ কোটি টাকা। কৃষক এবং বুদ্ধিজীবীদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গ্রামের আলে যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এইসব তথ্য টিভি শো-তে সান্ধ্যকালীন আসরে বসে জ্ঞান বিতরণ করা বিরোধী নেতা-নেতৃরা যখন পাবেন তখন দেখবেন বহু দেরি হয়ে গিয়েছে। শাসক দলের করিৎকর্মা মন্ত্রী, বিধায়ক, কর্মকর্তারা নির্বাচনী ময়দানে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন।

যে পরিবেশ দপ্তরকে রাজ্যের সব সরকার অবহেলার চোখে দেখেছে সেই দফতরকেও অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সারা পৃথিবী জুড়েই পরিবেশের সমস্যা ঘিরে ব্যাপক হইচই চলছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে এই রাজ্য সরকার বাজেট বরাদ্দ করেছে ১০৭.২২ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ নিয়ে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছেন অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী তথা পরিবেশ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এমতাবস্থায়, বিরোধীরা সব কোথায়? তাদের তো খুঁজতে হচ্ছে। এ বক্তব্য মানুষেরই।

Share it