নিউজ ওয়েভ ইন্ডিয়া: ভারত সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও নির্দেশিকা অনুসারে সোমবার, ১ জুন হাওড়া কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো ‘খেত বাঁচাও অভিযান’-এর। আগামী এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচি জেলার বিভিন্ন ব্লকের গ্রামাঞ্চলে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে হাওড়া কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান ও বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. কিরণময় বাড়ৈ জানান, কৃষিজমির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে এই উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “১ জুন থেকে আগামী এক মাস হাওড়া জেলার প্রতিটি ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে এই কর্মসূচি পালিত হবে। কৃষকদের মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা হবে এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ও জীবাণু সারের সহযোগে সুষম সার ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর এই ভাবনা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র কৃষকরাই নন, বিভিন্ন ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন (এফপিও)-এর সদস্য এবং সার-বীজ বিক্রেতারাও এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আসবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগৎবল্লভপুরের বিধায়ক অনুপম ঘোষ, ডেপুটি ডিরেক্টর অব এগ্রিকালচার (পশ্চিমবঙ্গ), হাওড়া ড. সন্তোষ কুমার জানা, জগৎবল্লভপুর ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা, উলুবেড়িয়ার সহ কৃষি অধিকর্তা (ফার্ম) এবং কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের অন্যান্য বিজ্ঞানীরা।

জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৬০ জন কৃষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান রাসায়নিক সারের ব্যবহার মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সেই প্রেক্ষাপটে কৃষকদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ও সুষম পদ্ধতিতে সার ব্যবহারের বার্তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

এই কর্মসূচির নোডাল অফিসার ড. অর্ক সামন্তের নেতৃত্বে ড. কৌশিক নাগ, ড. সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, ড. জয়ন্ত মণ্ডল এবং কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের অন্যান্য সদস্যরা আগামী এক মাস ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের আশা, ‘খেত বাঁচাও অভিযান’-এর মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই কৃষি চর্চার গুরুত্ব আরও বেশি করে পৌঁছে যাবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।