ছবিটি AI দ্বারা নির্মিত
Share it

নিউজ ওয়েভ ইন্ডিয়া: পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারে এসে ভারতীয় জনতা পার্টির বিভিন্ন নেতা তাঁদের ভাষণে যেসব কথা বলেছেন, তা অধিকাংশই ঠিক নয়। কিছু কিছু অর্ধসত্য থাকতে পারে। তা সত্ত্বেও কেন ওই নেতারা ভুল কথা বলছেন, সেটাই সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য হচ্ছে না।

যেমন বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে নাকি শিল্পের দশা অতি বেহাল। প্রচুর শিল্প পশ্চিমবঙ্গ থেকে মহারাষ্ট্র বা অন্যান্য রাজ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, একথা ঠিক। এই ঘটনা ঘটেছিল বামফ্রন্টের শেষ ২০ বছরের মধ্যে। সেসময়ই বেশ কিছু বড় শিল্প ও কারখানা অন্য রাজ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া কয়েকটি বড় বড় কারখানা বন্ধও হয়ে গিয়েছিল। এরমধ্যে আছে জেসপ, ডানলপ, শ ওয়ালেশ প্রভৃতি কম্পানি। কিন্তু এগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনেও বাম আমলের জঙ্গি শ্রমিক সংগঠনগুলিকেই দায়ী করা হয়।

ফলে শিল্প সরে যাওয়ার ব্যাপারটিতে এই সরকারের তেমন কোনও ভূমিকা নেই। বরং ভারত সরকারের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে শিল্পে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা বেশ উজ্জ্বল। সারা দেশে এক্ষেত্রে তার স্থান এখন তৃতীয় এবং এই উজ্জ্বলতা গত ১৫ বছরের চেষ্টায় পুনরুত্থান বলে উল্লেখ করা যেতে পারে।

এখানে কোনও কর্মসংস্থান নেই বলে বহু যুবক নাকি রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যগুলিতে কাজের খোঁজে যাচ্ছেন। এই তথ্যও ঠিক নয়। পরিযায়ী শ্রমিক সম্পর্কে যাদের নির্দিষ্ট কোনও ধারনা নেই মূলত তারাই এধরনের কথা বলে থাকেন। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যারা কাজ করতে যান তাঁরা আসলে কোনও না কোনও বিষয়ে দক্ষ। অন্য রাজ্যে গিয়ে দক্ষ শ্রমিক হিসেবেই কাজ করেন তাঁরা। কোনও অদক্ষ শ্রমিক বাইরে গিয়ে কি কোনও কাজ করতে পারেন? পশ্চিমবঙ্গ থেকে যেমন প্রায় দেড় লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক বাইরে বিভিন্ন দক্ষতার কাজে যান তেমনই বিভিন্ন রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। তাছাড়া বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ওড়িশা থেকে বেশ কিছু উদ্যোগী এরাজ্যে ছোট ছোট দোকান ও ব্যবসা চালান। তাই পশ্চিমবঙ্গে কাজ নেই এই তথ্য পুরোপুরি ভুল।

চাষের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গ অনেকটা এগিয়ে। বিশেষ করে ধান, আলু এবং আম চাষের ক্ষেত্রে এই রাজ্য অন্য সকলের চেয়ে এগিয়ে। ভারত থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকায় যে বাসমতী চাল রফতানি হয় তার একটা বড় অংশই জোগায় পশ্চিমবঙ্গ। তাহলে এরাজ্যকে যারা হেয় করছেন তারা না বুঝেই করছেন। ভোট এসেছে বলে আমাদের রাজ্যকে হেয় করতে হবে এমন নীতি ঠিক নয়। তাছাড়া আছে চা বাগানের অবস্থাও। বর্তমান সরকার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর চা শ্রমিকদের মজুরি অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের কাজে এবং বাসস্থানের পরিস্থিতিও অনেকটা উন্নত করা হয়েছে। চা শিল্পের আরেকটা বড় কেন্দ্র হচ্ছে অসম। কিন্তু সেখানে শ্রমিকদের অবস্থা এখনও সেই তিমিরেই রয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী অসমে বিধানসভা ভোট প্রচারে এসে এই দুই রাজ্যের চা শ্রমিকদের তুলনামূলক পরিস্থিতির কথাও আলোচনা করেছেন এবং পরিষ্কার বলেছেন, অসমের বিজেপি সরকার চা শ্রমিকদের জন্যে কিছুই করেননি।

ধান ও আম চাষের ক্ষেত্রে উন্নয়নের যে পরিকল্পনা রাখা হচ্ছে সেটাও রীতিমত উদ্বেগজনক। কারণ, বলা হচ্ছে কৃষকদের নাকি নিয়মিত আর্থিক সাহায্য করা হবে। কিন্তু, বিজেপির কাছে কৃষক মানে দশ বিঘা বা তার বেশি পরিমাণ জমির মালিক, প্রান্তিক চাষি বা ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের কোথাও কোনও সাহায্য করা হয় না। এখানে তা হয়।

তাছাড়া নারী নিরাপত্তা নিয়েও দারুণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু, ভারত সরকারেরই একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, সারাদেশে কলকাতাই সবচেয়ে নিরাপদ শহর। বাকি রাজ্যে বিভিন্ন জেলায় নারীদের ওপর যদি কোনও নির্যাতন হয়ে থাকে তবে তা নেহাত গার্হস্থ হিংসার মধ্যেই পড়ে। এরকম ঘটনা বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে আকছাড় ঘটে। তবে মণিপুর ও উত্তরাখণ্ডের মতো ঘটনা আর কোথাও ঘটে না, ঘটলে তা ভয়াবহ এবং সেই ভয়াবহ নজির রেখেছে বিজেপিশাসিত ওই রাজ্যগুলিই।

Share it