নিউজ ওয়েভ ইন্ডিয়া: কাঁচা পাট চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষায় ২০২৬-২৭ ফসল বছরের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। টিডি-৩ (মিডল গ্রেড) মানের কাঁচা পাটের জন্য কুইন্টালপ্রতি ৫,৯২৫ টাকা এমএসপি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য গ্রেডের পাটের জন্যও গ্রেডভিত্তিক মূল্য ঘোষণা করেছে জুট কমিশনারের দপ্তর। নতুন এমএসপি কার্যকর হয়েছে ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে।
বস্ত্র মন্ত্রকের অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (জেসিআই) জানিয়েছে, ১৯৭১ সাল থেকে এমএসপি প্রকল্পের মাধ্যমে তারা দেশের পাটচাষিদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে আসছে। ২০২৬ সালে সংস্থাটি কৃষকদের সেবায় ৫৫ বছর পূর্ণ করেছে। শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী সঞ্জয় কুমার পানিগ্রাহী, ন্যাশনাল জুট বোর্ডের সেক্রেটারি শ্রী শশীভূষণ সিং, ডেপুটি জুট কমিশনার শ্রী নীরজ কুলহারি এবং জেনারেল ম্যানেজার কল্যাণকুমার মজুমদার।
নতুন ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, টিডি-১ ও হোয়াইট-১ গ্রেডের পাটের এমএসপি কুইন্টালপ্রতি ৬,৫২৫ টাকা, টিডি-২ ও হোয়াইট-২ গ্রেডের জন্য ৬,৩২৫ টাকা, টিডি-৩ ও হোয়াইট-৩ গ্রেডের জন্য ৫,৯২৫ টাকা, টিডি-৪ ও হোয়াইট-৪ গ্রেডের জন্য ৫,৫২৫ টাকা এবং টিডি-৫ ও হোয়াইট-৫ গ্রেডের জন্য ৫,৩২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মেস্তা ও বিমলি পাটের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী পৃথক এমএসপি ঘোষণা করা হয়েছে।
জেসিআই-এর তরফে জানানো হয়েছে, এমএসপি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে রাজ্য সরকারগুলির সহযোগিতায় গ্রামাঞ্চলে প্রচার অভিযান, কৃষি কেন্দ্রগুলিতে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, সংবাদমাধ্যমে প্রচার, সাংবাদিক সম্মেলন এবং স্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কৃষকদের সুবিধার্থে ‘পাট-মিত্র’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এমএসপি, ক্রয়কেন্দ্রের অবস্থান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, কৃষি-পরামর্শ এবং অর্থপ্রদানের তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি মরশুম থেকে অ্যাপের মাধ্যমে স্লট বুকিং ব্যবস্থাও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জেসিআইয়ের ক্রয় কেন্দ্রে পাট বিক্রি করার জন্য এখন থেকে কৃষকদের ওই অ্যাপে স্লট বুকিং করতে হবে।
জেসিআই আরও জানিয়েছে, পাটচাষে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, গুণগত মান উন্নয়ন, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সমবায় এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পাটজাত বৈচিত্র্যময় পণ্যের প্রচারেও সংস্থাটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
সংস্থার দাবি, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পাটশিল্পকে আরও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাটচাষিদের স্বার্থরক্ষা এবং ভারতের পাটখাতের টেকসই উন্নয়নে ভবিষ্যতেও জেসিআই তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে বলে জানানো হয়েছে।