নিউজ ওয়েভ ইন্ডিয়া: সম্প্রতি(23 ও 24 ফ্রেরুয়ারি 2026) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের বারাটি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আইপিএম প্রশিক্ষণ শিবির। ভারত সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীন আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় সুসংত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সল্টলেক এই শিবিরের আয়োজন করে। এই প্রশিক্ষণ শিবিরকে কেন্দ্র করে মহিলাদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। শিবিরের মোট ৪০ জন কৃষকের মধ্যে ১৫ জন মহিলা ছিলেন। প্রশিক্ষণের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাদের এগিয়ে আসতে দেখা যায়।
আইপিএম (Integrated Pest Management) কথাটির অর্থ হল সুসংগত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ । এর চারটি পদ্ধতি আছে যেমন- ব্যবহারিক পদ্ধতি, যৌগিক পদ্ধতি, যান্ত্রিক পদ্ধতি ও রাসায়নিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিগুলো সঠিকভাবে অবলম্বন করে চাষ করলে রাসায়নিক কীটনাশকের বিশেষ প্রয়োজন হয় না। বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ যেমন- ফেরোমেন্ট ট্যাপ, হলুদ ফাঁদ, নীলফাঁদ, ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের নানা ফাঁদ তৈরির কৌশল ও সঠিক ব্যবহার হাতে কলমে কৃষকদের শেখানো হয়। এই প্রশিক্ষণ শিবিরে এগুলি ঘরে বানানো অতি সামান্য খরচ পড়ে এবং তৈরি করার পদ্ধতি ও খুব সহজ। কোনো বিষ প্রয়োগ না করে অতি সহজে বিশেষ বিশেষ পোকা ও ইঁদুর দমন করা যায়। বিভিন্ন জৈব কীট নাশক, ছত্রাক নাশক, ব্যাকটেরিয়া নাশক, কৃমিনাশক প্রস্তুত প্রণালী ও ব্যবহার শেখানো হয়। জৈব সারের গুরুত্ব ও ব্যবহার বিভিন্ন জৈব বন্ধু ছত্রাক যেমন ট্রাইকোডার্মা ভিরিডি, ট্রাইকোডার্মা হারজিয়ানাম তৈরির উপাদান ও আইপিএম বই সকল কৃষককে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় ।
সল্টলেক আইপিএম অফিসের ডেপুটি ডাইরেক্টর মিস্টার পাবেল মজুমদার জানালেন, আইপিএম পদ্ধতিতে চাষ করলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে ফলে উন্নত মানের ফসল পাওয়া যায়। অজ্ঞাতবশতঃ কৃষকরা জমিতে যথেচ্ছ রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে ফেলে, এর ফলে পরিবেশ দূষিত হয় ও মাটির উৎপাদন ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। অন্য আধিকারিক শ্রীমতি মৌমিতা চক্রবর্তী বিভিন্ন প্রকার ফসলে যেমন ধান, আলু, ফুল ও বিভিন্ন প্রকার সবজি যেগুলো এই এলাকাতে অধিক উৎপাদিত হয় তাদের ক্ষতিকারক পোকা ও তাদের দমন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী সকল কৃষকরা জানালেন তাদের এই এলাকাতে এই ধরনের প্রশিক্ষন শিবির এই প্রথম। তাই তারা প্রবল উৎসাহী এবং এই আইপিএম পদ্ধতিতে চাষ করতে আগ্রহী। বিশিষ্ট সমাজসেবী জেসাস বিশ্বাস রায় বলেন, এই পদ্ধতিতে চাষ করে এই এলাকার চাষিরা খুবই উপকৃত হবেন এবং তাদের অর্থনীতি উন্নতি হবে, ফলে এলাকার সামগ্রিক উন্নতি হবে।