নিউজ

বাড়ছে জলস্তর, নদীতে তলিয়ে মৃত এক

Published by
News Wave India Desk
Share it

টানা বৃষ্টিতে জল বাড়তে শুরু করেছে বীরভূমের বিভিন্ন নদীতে। ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। সতর্ক করা হয়েছে নদী বাঁধ সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দাদের। এরই মাঝে হিংলো নদীতে জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধের।

ঝাড়খণ্ড রাজ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বীরভূমের মুরারই ১ নম্বর ব্লকের পাগলা এবং বাঁশলৈ নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। ঝাড়খণ্ডের পাহার থেকে নেমে আসা জলেই প্রতিবছর বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। শনিবার পাগলা নদী তীরবর্তী গ্রাম দাদপুর এবং বাঁশলৈ নদীর তীরবর্তী গ্রাম রতনপুর, কাহিনগর গ্রাম পরিদর্শন করেন BDO প্রণব চট্টরাজ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাহানাজ বেগম এবং সেচ দফতরের আধিকারিকরা।

দাদাপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, গতবছর বনার সময় নদীর বাঁধ ভেঙ্গেছিল। ওই বাঁধের উপর পাকা রাস্তা ছিল। যার উপর দিয়ে মানুষ চলাফেরা করত। ওই রাস্তা ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ মেরামতের পাশাপাশি রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কিন্তু এখন সেই প্রতিশ্রুতি পালন করা হয়নি। এবারও সেই ভাঙন দিয়ে গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করেছে।

রতনপুর গ্রামেও নদীর মাটি ক্ষয় হতে শুরু করেছে। যো কোনও মুহূর্তে ভেঙে গ্রামে জল ঢুকতে পারে। এমনকি নদী পাড়ে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি গুলিও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। নদী ভাঙন শুরু হলে খুঁটি ভেঙে বিপত্তি হতে পারে।

অন্যদিকে সুরবতী নদীর জল বাড়ায় মহুরাপুর অঞ্চলের রুকুনপুর গ্রামের সেতু জলের তলায় চলে গিয়েছে। গ্রামের মানুষ ওই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে।

নলহাটি বিভাগের সেচ আধিকারিক সুজয় দাস বলেন, “নদী বাঁধ সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে এস্টিমেট পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনও অনুমোদন আসেনি। তবে আপাতত যে সমস্ত এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে সেখানে মেরামতের কাজ চলছে।”

বিডিও প্রণব চট্টরাজ বলেন, “নদী ভাঙন রুখতে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এতে বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।”

এদিকে জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। মৃত বৃদ্ধের নাম রামচন্দ্র গড়াই (৬৮)। বাড়ি কাঁকড়তলা থানার বাবুইজোড় গ্রামে। পেশায় কৃষিজীবী রামচন্দ্র গড়াই শুক্রবার হিংলো নদীর একবুকে জল পেরিয়ে চাষের কাজে যান। ফেরার সময় জল বেড়ে যায়। ভেবেছিলেন গরুর লেজ ধরে পেরিয়ে যাবেন। কিন্তু মাঝ নদীতে লেজ থেকে হাত খসে যায় তাঁর। দুদিন ধরে খোঁজার পর শনিবার বিকেলের দিকে হিংলো জলাধার থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

Share it
News Wave India Desk

Share
Published by
News Wave India Desk

This website uses cookies.