নিউজ ওয়েভ ইন্ডিয়া: ১৯ জুন হাওড়া কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে (কেভিকে) ইন্টিগ্রেটেড নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট (Integrated Nutrient Management) বিষয়ক ১৫ দিনের নতুন আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। একই অনুষ্ঠানে এক বছরের ডেইজি (Diploma in Agricultural Extension Services for Input Dealers – DAESI) কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করা ৪০ জন শিক্ষার্থীর হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ইন্টিগ্রেটেড নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট কোর্স সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করে সার বিক্রির লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ডেইজি কোর্স সফলভাবে শেষ করলে সার, বীজ এবং কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স প্রাপ্তির পথ সুগম হয়। নতুন আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া হাওড়া ও হুগলি জেলার মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী এদিন শংসাপত্র গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার আঞ্চলিক প্রধান সুবোধ কুমার সিং। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাওড়া জেলার উপ-কৃষি অধিকর্তা (বিশ্বব্যাংক) ড. সন্তোষ কুমার জানা, উপ-কৃষি অধিকর্তা (ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট) ড. প্রশান্ত মান্না, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ শিক্ষা অধিকরণের সহ-অধিকর্তা ড. অমিতাভ ব্যানার্জি এবং জগৎবল্লভপুর ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তা মনোতোষ মণ্ডল।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হাওড়া কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রধান ড. কিরণময় বাড়ৈ। উপস্থিত বক্তারা আগামী দিনের ইনপুট ডিলারদের মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে সুষম ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

ড. অমিতাভ ব্যানার্জি তাঁর বক্তব্যে সুস্থিত কৃষির স্বার্থে জৈব ও অজৈব উভয় ধরনের সারের সমন্বিত ব্যবহারের পাশাপাশি সমন্বিত রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ড. কিরণময় বাড়ৈ বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং কৃষকদের সঠিক পরামর্শ প্রদানে সার বিক্রেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে চলমান ‘ক্ষেত বাঁচাও’ অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্যও তিনি সকলকে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিলেন ড. সুদীপ্ত ব্যানার্জি ও ড. জয়ন্ত মণ্ডল। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. অর্ক সামন্ত। শেষে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন ড. কৌশিক নাগ।

শংসাপত্রপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে দু’জন শিক্ষার্থী তাঁদের এক বছরের প্রশিক্ষণকালীন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং এই কোর্সের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার কথা ভাগ করে নেন।

কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি এবং শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই দুটি কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা। আগ্রহীদের হাওড়া কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে যোগাযোগ করে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।