দিলীপ গুহ, নয়াদিল্লি: ‘মেয়েদের রাত দখল’ কর্মসূচি কলকাতার পাশাপাশি দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকাতেও যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে নয়ডার পথ দখল নিল মেয়েদের জমায়েত। শুধু মেয়েরা নন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে জমায়েতে অংশগ্রহণ করেন।
দিল্লি এনসিআর অঞ্চলের মধ্যে গ্রেটার নয়ডার সি আর পার্ক, নয়ডা এবং গৌর সিটি অনুরূপ বিক্ষোভ সংগঠিত হয়েছিল। ঘটনার প্রতিবাদে ১৪ আগস্ট রাত্রে শতাধিক মহিলা ও পুরুষ জমা হোন গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্ট এর গৌড় সিটি গেটের সামনে। বিশেষত মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমে নীরবতা পালন ও পরবর্তীতে ঘটনার বিরোধিতা করে স্লোগান দেন তাঁরা। একইসঙ্গে স্বাধীনতা দিবসে, নারী স্বাধীনতার দাবিও তাঁরা তোলেন। এবং আর জি কর কাণ্ডের সুবিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে অঙ্গীকারবদ্ধ হন সকলে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, চিকিৎসকদের ওপর নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলা গণমাধ্যম, অভিনেতা, সমাজকর্মী, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মী, রাজনীতিবিদ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেনি।
সি আর পার্কের একজন সংগঠক বলেছেন, “আমরা, যারা ক্ষমতাসীনদের উদাসীনতায় গভীরভাবে আঘাত পেয়েছি এবং দুঃখিত বোধ করছি, একে অপরের সাথে দাঁড়িয়ে একে অপরকে আশ্বস্ত করব যে আমরা সকলেই অন্যায়ের শিকার এবং আমরা একসাথে দাঁড়িয়ে আছি, আর জি কর মেডিকেল কলেজের একজন ডাক্তার মেয়ে যিনি তার উপর আঘাত করা জঘন্য আঘাতের কারণে মারা গিয়েছেন। আমরা প্রত্যক্ষদর্শীরা যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন এই ভয় সহ্য করবে এবং ট্রমা বয়ে বেড়াব।”
বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, “মেয়েরা রাতের দাবি করতে বাধ্য হয়েছে। সময় এখনই। বছরের পর বছর ধরে পুনরাবৃত্ত ঘটনাগুলি, নীরবতা এবং ভদ্রতার সাথে বজায় রাখা, এটি স্পষ্ট করে। আমরা অরক্ষিত, অপমানিত ও পরনির্ভরশীল হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তাই নিরাপত্তার জন্য, স্বাধীনতার জন্য, প্রতিবাদ জানানো অপরিহার্য। এখনই সময় প্রতিটি মেয়েকে আশ্বস্ত করা যে সে দুর্বল নয়।”