শ্যামল মুখোপাধ্যায়: রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্তে সর্বত্রই ঝাঁ চকচকে মসৃণ রাস্তা তৈরির বড় আকারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে পূর্ত দফতর। এই প্রকল্পকে সফল করতে রাজ্যের পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গডকড়ির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন দফতরের বিভাগীয় কর্তাদের সঙ্গেও। কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতর এই রাজ্যকে ঢেলে অর্থ সাহায্য দিতে এগিয়ে এসেছে। রাজ্যের পূর্ত মন্ত্রীর অফিস সূত্রের খবর, সড়ক উন্নয়নের এই কাজ শুরু করা হচ্ছে বীরভূম জেলা থেকে। রাজ্যের পূর্ত মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, বীরভূম জেলার দুই জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী ৫০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। বিপুল পরিমাণ এই টাকায় বীরভূম জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মীয় স্থানগুলি এবং সতীপীঠগুলিতে পৌঁছানোর সড়ক যোগাযোগগুলি ঝাঁ চকচকে, তেলের মত মসৃণ রাস্তা করে তোলার সব ব্যবস্থাপনাই পাকা করা হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত, স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছানোর জন্য রাস্তার ব্যাপক সংস্কার তো হবেই, একইসঙ্গে বীরভূম জেলাজুড়ে প্রচুর জাগ্রত ধর্মীয় স্থান এবং বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পূর্ত মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের বীরভূম জেলায় স্বচ্ছন্দে যাতায়াতের ব্যবস্থাপনা পাকা করার লক্ষ্য সামনে রেখেই এই মসৃণ সড়ক ব্যবস্থা চালু করতে চায় রাজ্য সরকার।
পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার সংযোগস্থলে ছোট্ট একটি স্টেশন নাম ভীমগড়। রেলস্টেশন পাশেই শান্ত, অতি শান্ত গ্রাম ভীমগড়। এই ভীমগড় থেকেই যাওয়া যায় বীরভূমের বিখ্যাত একটি সতীপীঠ “ললাটেশ্বরী মন্দির”। এই এলাকারই নাম নলহাটি। শহর, দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ও পূর্ণার্থী এই ললাটেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন। এতদিন এই রাস্তা ছিল খানাখন্দে ভর্তি। পূর্তমন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দারের বিশেষ আগ্রহে কেন্দ্রের বরাদ্দ টাকায় ভীমগড় থেকে নলহাটি পর্যন্ত ৯২ কিলোমিটার রাস্তা সম্প্রসারণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের অভিমত, এই রাস্তা এবং জাতীয় সড়ক ১৪-এর পথ ধরে শুধু আসানসোল, দুর্গাপুর, রানিগঞ্জের কয়লা এবং শিল্প এলাকার পুণ্যার্থীরাই নন, বিহার-ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা স্বচ্ছন্দে বীরভূম জেলায় ঢুকে ওই জেলার বিভিন্ন সতীপীঠগুলি এবং যুগ যুগ ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন মন্দিরগুলি দর্শন করতে পারবেন। এই প্রসঙ্গে শুধু রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী নন, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি সমাজ মাধ্যমে আনন্দের সঙ্গে জানিয়েছেন, “বীরভূমে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের ফলে যানজট কমবে এবং কম সময়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হবে।” তাঁর কথায়, একইসঙ্গে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যোগাযোগ আরও মসৃণ হবে, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটবে। অন্য যাতায়াতের জন্য পরিবহন ব্যবস্থাও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কেন্দ্রীয় সড়ক মন্ত্রীর উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রকের আধিকারিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বাবু জানিয়েছেন, “রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সচল, গতিশীল এবং মসৃণ করে তুলতে এই উদ্যোগ অতি গুরুত্বপূর্ণ।”
বীরভূম এলাকার জাতীয় সড়ক ১১৪-এর সুরুল থেকে মল্লারপুর পর্যন্ত ৫৬.৪০ কিলোমিটার অংশের চওড়া করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে রাজ্যের পূর্ত দফতর সূত্রের খবর।
এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বাবু জানিয়েছেন, “এর আগে কেন্দ্রের অর্থ সাহায্য কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে নানা বাধা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার উন্নত ও মসৃণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ দ্রুত কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।”
এই প্রকল্পের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিরও সরাসরি যোগ রয়েছে। বীরভূমের একাধিক শহর, গ্রাম এবং বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে জাতীয় সড়কের যোগাযোগ রয়েছে। রাস্তা চওড়া হলে পণ্যবাহী যান থেকে যাত্রী পরিবহন সব ক্ষেত্রেই সময় সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে নিরাপত্তা মূলক উন্নয়নের বৃহত্তর উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এই সম্প্রসারণের কাজ করা হবে বলে রাজ্যের পূর্ত দফতর সূত্রেরই খবর।