নিউজ

Pahalgam Attack ! পহেলগাঁওয়ের ঘটনা কি ভূগোল বদলে দেবে !

Published by
News Wave India Desk

নিউজ ওয়েভ ইন্ডিয়া: গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় যেভাবে নিরীহ ও নিরস্ত্র পর্যটকদের উপর সশস্ত্র জঙ্গীরা আক্রমণ করল এবং তাদের খুন করল তাকে এক কথায় নিন্দা জানাবার মতো ভাষা-সীমা নেই। যারা নিরীহদের উপর আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তাদের এক কথায় কাপুরুষ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। এর উপর যদি আবার ধর্মের প্রলেপ দেওয়া হয় তবে ধর্মকেই অপমান করা হবে। সেটা যেন কোনওভাবেই না হয়। মানুষের উপর এভাবে বিনা কারণে হামলা চালিয়ে, গুলি করে, খুন করে যারা উল্লাস দেখাতে চায় তারা মানব সমাজে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর যারা এই খুনের পিছনে আদর্শের কথা বলে তাদের আদর্শও ভুয়ো এবং অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করা উচিত। এই হামলা মানুষের ইতিহাসে কলঙ্কের দাগ রেখে গেল।

নিরীহ কয়েকজনের প্রাণ যাওয়ার ফলে, মনে হচ্ছে, এই উপমহাদেশের ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক পট পরিবর্তন হতে চলেছে। কারণ, ভারত কখনওই এই হামলা মেনে নেবে না। অধিকাংশ ভারতবাসীই চান, ভবিষ্যতে যেন আর কখনও এভাবে কিছু ধর্মোন্মাদ ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নিরীহ মানুষকে খুন করতে না পারে। তাই একেবারে খুনিদের শিকড় উপড়ে ফেলাই হবে প্রকৃত কর্মসূচি। এই কর্মসূচি রূপায়ণের জন্য যদি আগামী কিছুদিন ভারবাসীকে কষ্ট শিকার করতে হয় তবে তা মেনে নিতে তারা দ্বিধা করবে না। কারণ, এই হত্যার পিছনে যে ছকটি কাজ করছে তা কেবল পহেলগাঁও-তেই
সীমাবদ্ধ নয়। মনে হয় এর বিস্তার ঢাকা থেকে রাওলপিন্ডি পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।

কিছুদিন আগে মুর্শিদাবাদে যে ঘটনা ঘটে গেছে, আশঙ্কা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে সেটাও একটা অনুষঙ্গ। মুর্শিদাবাদে বেছে বেছে একটি বিশেষ ধর্মসম্প্রদায়ের মানুষের উত্যক্ত করা হয়েছে, তাদের নিজের ঘরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, আগুন লাগানো হয়েছে, এমনকি দুজনকে খুনও করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের জীবনে এই ঘটনা মোটেই কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। ব্যাপক পরিকল্পনা ছাড়া এমনটা হওয়ার কথাও নয়। অনেকেরই আশঙ্কা এর পিছনেও বাংলাদেশের জঙ্গীদের মদত রয়েছে।

তারপরেই ঘটল পহেলগাঁওয়ের ঘটনা (Pahalgam Attack)। সেখানেও খুন ও জখম করার ব্যাপারে ধর্ম বেছে নেওয়া হয়েছে। কোনও সাধারণ মানুষ এভাবে ধর্মের গণ্ডি টেনে নিজেদের জীবন জীবিকাকে বিপন্ন করতে পারেন না। কাশ্মীরেও তেমনটাই ঘটেছে। সেরাজ্যে অর্থনীতিতে পর্যটন একটা বিরাট ব্যাপার তাই বেছে বেছে পর্যটকদের এভাবে খুন করায় মনে হয় রাজ্যের অর্থনীতিকেও ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে। এর একটা বড় প্রমাণ হচ্ছে জঙ্গী হামলার পরে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় মানুষজন তাদের কাঁধে করে বহন করেছেন, এবং চিকিৎসার দ্রুত ব্যবস্থা করেছেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা গত ২৮ এপ্রিল রাজ্য বিধানসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে কোনও সাধারণ কাশ্মীরি জড়িত নয়। এমনকী আদিল নামে এক ব্যক্তি যেভাবে পর্যটকদের বাঁচানোর জন্যে নিজের জীবন দিয়েছেন সেটাও কম কথা নয়। তিনিও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই জঙ্গী কার্যকলাপের পিছনে আসলে রাজ্যের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার একটা চক্রান্ত চলছে।

এই পুরো পরিস্থিতি এখন উপমহাদেশকে যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই যুদ্ধ যদি সার্বিক হয় তাহলে পাক অধিকৃত কাশ্মীর স্বাধীন হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া পাকিস্তানের মধ্যে বালুচিস্তান ও পাখতুনখোয়া এলাকায় যে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে তাও পাকিস্তানকে কার্যত ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাবে। এরপর হয়তো দেখা যাবে পাকিস্তান বলতে কেবল পশ্চিম পাঞ্জাবের অস্তিত্বই রয়েছে। এই পরিস্থিতি যদি সত্যিই কখনও হয় তাহলে তার জন্যে পুরোপুরি দায়ি থাকবে পাকিস্তানের এতদিনকার রাজনীতি। মাঝখানে ইমরান খান কিছুদিনের জন্যে পাকিস্তানকে গণতন্ত্রের মধ্যে আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও নিজের ধর্মীয় সংকীর্ণতা ছাড়তে না পারার জন্যে পর্যুদস্ত হয়েছেন এবং তার চেয়ে ক্ষমতাশালী ধর্মান্ধরা তাকে জেলে ভরে দিয়েছে। এর আগে জুলফিকার আলি ভুট্টো গণতন্ত্রের ভান করেছিলেন কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাপারে প্রমাণ হয়েছিল যে তিনি প্রকৃত গণতন্ত্রী নন। ফলে পাকিস্তানে যা চলছিল তাই চলে আসছে। মাঝে মাঝে সেনাশাসন, মাঝে মাঝে স্বৈরতন্ত্রী শাসন এবং মাঝে মাঝে সংকীর্ণ ধর্মীয় শাসন এতদিনকার পাকিস্তানের এটিই আসল চেহারা। তাই তার পক্ষে অস্তিত্ব বজায় রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। বাইরের কোনও হস্তক্ষেপেরও দরকার পড়বে না। নিজেরাই নিজেদের শেষ করে দিতে যথেষ্ট ক্ষমতা রাখে এবং ক্রমাগত তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে সেদিকেই এগিয়ে চলেছে।

তাছাড়া কাশ্মীরের যে অংশ তারা দখল করে আছে সেটি তারা জোর করে দখল করেছে এবং পুরো কাশ্মীরের দখল নিতে গিয়েও তারা ব্যর্থ হয়েছে। জোর করে দখলে রাখা কোনও ভূখণ্ড চিরকাল পরাধীন থাকে না। ইতিমধ্যেই সেখানে বালটিস্তান এবং গিলগিটে বেশ কয়েকবার জনবিক্ষোভ হয়েছে। পাকিস্তান সরকার তা কড়া হাতে দমন করার চেষ্টাও করেছে। ফলে এই বিক্ষোভ এবং অসন্তোষ নিয়ে পাকিস্তানের কোনও কেন্দ্রীয় শাসনই শক্তিশালী হতে পারবে না। গণতন্ত্রহীনতাই এর জন্যে দায়ী।

বাংলাদেশকেও তারা ইতিমধ্যে এই নির্দয় এবং ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার যদি তার আঁচ না পায় তবে তার মুর্খামির ফল তাকেই ভুগতে হবে। কারণ, সেদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাস এবং ধর্মীয় বিভেদের বিরুদ্ধে। গত জুলাই মাসে সেদেশের যারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত শেখ হাসিনার সরকারকে জোর করে হঠিয়ে দিয়েছিল তাদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ এখন বলতে শুরু করেছেন ওই আন্দোলন মোটেই গণঅভ্যুত্থান ছিল না, তা ছিল মৌলবাদী এবং সন্ত্রাসবাদীদের দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের ফল। এর আগে শাহবাগে উদারপন্থীদের বিপুল সমাবেশে ওই সন্ত্রাসবাদীরা তখনকার মতো পিছু হঠেছিল কিন্তু জুলাইতে তারা সফল হয়। আর সেই সাফল্যকে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেও তারা অস্বীকার করতে চেয়েছে। দেশের কোনও শক্তপোক্ত সরকার থাকলে এই ধরনের মনোভাবকে কঠোরহাতে দমন করা হত। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি কারণ সরকার সম্ভবত চলছে ওই মৌলবাদীদের হাত ধরে। ফলে পহেলগাঁওয়ের ঘটনা তাদের জন্যেও অশনিসংকেত। এই কথাটা তারা যত পরিষ্কারভাবে মাথায় রাখতে পারবে ততই উপমহাদেশের পক্ষে মঙ্গলের বিষয় হবে।

News Wave India Desk

Share
Published by
News Wave India Desk

This website uses cookies.