দেশ

পশুপাখিদের জন্যেও খাদ্য উৎপাদন দরকার

Published by
News Wave India Desk
Share it

যীশু চৌধুরী (প্রবীণ সাংবাদিক) : আমাদের নতুন জীবনযাত্রা শুরু হওয়া উচিত চাষের জমি থেকেই। এ ব্য়াপারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে ছোটো, মাঝারি, প্রান্তিক চাষি এবং ক্ষেত মজুরদের। তাদের যথেষ্ট রকম প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে হবে। তাদের নিরাপদ জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা সবার আগে দরকার এই কারণেই যে আগামীদিনে আমাদের নতুন অর্থনীতি গঠনে তাদেরই ভূমিকা সবচেয়ে বড় হয়ে উঠবে। বহুদিন আগে গান্ধিজিও এই কথাই বলেছিলেন। কিন্তু এই নতুন পরিস্থিতিতে গান্ধিজির সেই ইচ্ছাই আর একটু অন্যভাবে এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

কারণ, এখন কৃষিতে যে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় তাকে নিষিদ্ধ করার জন্য অন্যরকম সামাজিক আন্দোলনের দরকার আছে। সেই আন্দোলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা হয়ে উঠতে পারবে ওই কৃষকদের উদ্যোগই। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আগে প্রচার করতে হবে, পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত ফসল উৎপাদনের জন্যে তাঁরা দায়বদ্ধ। তাদের মধ্যে এই কথাটা প্রচার করতে হবে সবরকম রাসায়নিক পরিত্যাগ করেও ফসল বেশি উৎপাদন করার অন্য বৈজ্ঞানিক উপায় আছে।

আরও পড়ুন : করোনা সামলাতে কৃষিই ভরসা

কয়েকটি দেশে এমন রীতি মেনে চলা হয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেশি ফসল তুলে আনা। সেইভাবে তারা পদ্ধতিও তৈরি করে। এখন কিন্তু ওইসব দেশেও চাষিরা এই চটজলদি পদ্ধতির প্রতিবাদ করছেন। তাহলে আমরাই বা অন্যের নকল করতে যাব কেন। ওইসব দেশের চাষিরা এখন চাইছেন স্বাভাবিক পদ্ধতিতেই প্রাকৃতিক নিয়মে স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ ফসল ফলানো উচিত। তাতে যে পরিশ্রম বাড়বে তা বাড়ুক। ফসল বলতে কিন্তু কেবল মানুষের খাদ্য ধান, গম বা ডাল জাতীয় পদার্থই শুধু নয়। এখন দৃষ্টি রাখতে হবে পশু পাখি পোকা মাকড়রাও যেন যথেষ্টরকম খাদ্য পেতে পারে। সেইজন্যে ফল পাকুড় এবং অন্যান্য পশুখাদ্যও উৎপাদন করা দরকার। কারণ মানুষকে ওদের পাশাপাশিই থাকবে হবে।

এইধরনের ফসল বলতে নানা শস্যবীজ, ঘাস, শাকপাতা, বাদাম প্রভৃতি বিভিন্ন জাতীয় খাদ্য। তা ছাড়া উৎপাদন করতে হবে প্রয়োজনীয় দুধ, নুন, চিন, পশলাপাতি, ভোজ্য তেল, চা, কফি, কোকো, মুরগির মাংস এবং মাছ। শেষেরগুলির জন্য অবশ্য অন্য চাষি সম্প্রদায় আছে। তাদেরকেও এই ছোটো, মাঝারি এবং প্রান্তিক চাষিদের মধ্যেই ধরতে হবে। সেক্ষেত্রেও দিন মজুরদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখতে হবে পুরোপুরি। একই সঙ্গে রেড মিট জাতীয় খাদ্যের উৎপাদন কমিয়ে আনতে হবে। তামাক এবং মদের উৎপাদন ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারলে এই নতুন ব্যবস্থাপনায় সত্যিকারের সুস্থিতি দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন : করোনা আবহে সংকটে অর্থনীতি : তবে কি গান্ধিজির পথেই…!

Share it
News Wave India Desk

Share
Published by
News Wave India Desk

This website uses cookies.