শীতলকুচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকালে দেখা করলেন শীতলকুচি গুলিকাণ্ডে নিহত পরিবারগুলির সঙ্গে। এদিন সকালে মাথাভাঙায় নিহতদের স্মরণসভায় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। স্মরণসভায় বক্তব্য রাখার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহতদের আত্মীয়দের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। চতুর্থ দফায় ভোট চলাকালীন সেখানে মোট ৫ জন নিহত হন।
শীতলকুচিতে নিহতদের পরিবারের পাশেই আছেন, এই বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দেন তৃণমূল নেত্রী। সেইসঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে আসল দোষীদের খুঁজে বার করা হবে। কাউকে রেয়াত করা হবেনা বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিহত মনিরুল হকের স্ত্রী-র কোল থেকে তাঁদের সদ্যোজাত সন্তানকেও কোলে তুলে নেন। কথা বলেন নিহত বছর ১৮-এর কিশোর আনন্দ বর্মণের মামা ও দাদুর সঙ্গেও। মঙ্গলবারই মমতা জানিয়েছিলেন, তিনি আনন্দর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে চান। তবে, প্রথমে তাঁর পরিবার সাক্ষাতে রাজি হয়নি বলেই খবর রটেছিল। কিন্তু, এদিন মমতা আসার আগেই পৌঁছে যান আনন্দর দাদু। তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন মমতা। প্রথম বার ভোট দিতে যাওয়া ওই রাজবংশী কিশোরের মৃত্যুরও তীব্র নিন্দা করেন তৃণমূল নেত্রী।
নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চোখে জল দেখা যায় মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়েরও। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সকলের ঘরের লোক। নির্বাচন শেষ হতে দিন। সরকার তদন্ত করবে। দোষীরা শাস্তি পাবেই।” নিহত পাঁচ জনের পরিবারই সরকারি সাহায্য পাবে বলেও জানান মমতা। সেইসঙ্গে পাঁচজনেরই শহিদ বেদি তৈরি হবে বলে জানান তিনি। “মানুষ এই হত্যার জবাব দেবে” বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ভোট মিটলেই ফের শীতলকুচি আসার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
This website uses cookies.