নিউজ

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ‘বিকল্প চাষে’ জোর, বললেন কৃষিমন্ত্রী

Published by
News Wave India Desk

শ্যামল মুখোপাধ্যায়, নবান্ন: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ,- “কৃষিতে উৎপাদন আরও বাড়াতেই হবে, উৎপাদন কোনও মতেই কম হওয়া চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ মতোই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে রাজ্যের কৃষি দফতর। এই রাজ্য ইতিমধ্যেই ধান উৎপাদনে ধারাবাহিকভাবে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে। ২০২৩-২০২৪ সালে ১৬৩.৬৮ লক্ষ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন করেছে। ২০২৪-২০২৫ সালের উৎপাদন দাঁড়াবে ১৮১.৮০ লক্ষ মেট্রিক টন (খরিফ ধানের উৎপাদন) শুধু যে প্রথাগত আউস, আমন ধানের উৎপাদন বাড়ছে তা নয়। কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই পত্রিকাকে জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগের নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি, কালোনুনিয়া সহ দেশীয় সুগন্ধি চালের এলাকা এবং উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। গোবিন্দভোগ, বাদশা ভোগ, রাধা তিলক, সীতাভোগ, দাদাশাল, কনকচুর, তুলাইপাঞ্জি, মল্লিভুলো এবং কালো নুনিয়া নামে নয়টি চমৎকার জাতের সুগন্ধি ধান দেড় লক্ষ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রশ্ন এখানেই। ধানের উৎপাদন বাড়ছে এবং বেড়েই চলেছে। নয় ধরনের সুগন্ধি চালেরও উৎপাদন এবং বাজার খুব ভালো। তাহলে? খাদ্যের সম্ভার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত উদ্বেগ কেন? আমাদের এই প্রশ্নের সাবলীল ভাষায় স্পষ্টভাবে উত্তর দিয়েছেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব কিছুরই আগাম সর্তকতা রাখতে চান এবং সেই মতো দ্রুত এবং শক্তিশালী ব্যবস্থা নিয়ে রাখতেও চান। এর একটাই কারণ, রাজ্যের মানুষ বিশেষ করে গরিব এবং প্রান্তিক মানুষ যেন খাদ্যের অভাবে ন্যূনতম কষ্টও না পান। আর সেই হিসাব মাথায় রেখেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিকল্প চাষের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, খরা, বন্যা হলে প্রথাগত ধান চাষ মার খেতে বাধ্য। চাষ মার খেলে উৎপাদনও কমবে দ্রুত গতিতে। সেক্ষেত্রে “বিকল্প চাষ” খরাপীড়িত বা বন্যাপীড়িত এলাকায় কৃষিজীবীদের বাঁচিয়ে দেবে। জলের সংকট হলে প্রথাগত ধান চাষ মার খাবেই। বিকল্প চাষের ক্ষেত্রে সেসব সমস্যা নেই। কৃষিজীবিরাও বাঁচবেন। অন্যভাবে উৎপাদনও পুষিয়ে যাবে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্বেগ, আশঙ্কা, রাজ্যবাসীর খাদ্যের সংকট হতে পারে – এই সব ধারণা এবং বক্তব্যকে সামনে রেখেই রাজ্যের কৃষি দফতর প্রথাগত ধান চাষের পাশাপাশি “বিকল্প চাষের” ক্ষেত্রেও রীতিমতো আলোড়ন ফেলে ময়দানে নেমে পড়েছেন কৃষিমন্ত্রী এবং দফতরের কর্তারা। কী এই বিকল্প চাষ? কৃষিমন্ত্রীর সরল পাটিগণিত – বিকল্প চাষের ক্ষেত্র হল আরও বেশি পরিমাণ ভুট্টা, ডাল শস্য, তৈলবীজ, আখ, মিলেট ইত্যাদি চাষের জমি আরও বাড়িয়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা এবং পৌষ্টিক মিশন – বাণিজ্যিক ফসলের (তুলা এবং পাট) চাষও দ্রুত এগিয়ে নিতে চলেছে রাজ্যের কৃষি দফতর।

কৃষিমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে কয়েক বছরে ভুট্টার চাষ দ্রুত বাড়ছে। ২০২৩ – ২০২৪ সালে ৪.০১ লক্ষ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করেছেন কৃষিজীবীরা। উৎপাদন হয়েছে ২৮.৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন। আগামী বছর ভুট্টার আওতাধীন এলাকা ৬০,০০০ হেক্টর বাড়ানো হচ্ছে। ভুট্টা চাষের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা যেমন বজায় থাকবে একই সঙ্গে পশু খাদ্য ও অন্য সব শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোও সহজতরো হবে। এই চাষে জলের চাহিদাও সেই রকম প্রয়োজন হয় না। আলু, ডাল শস্য, তৈলবীজ সহ বিকল্প চাষগুলিতে ধান চাষের মতো প্রচুর সেচের জলের প্রয়োজন হয় না। যেকোনও ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও উৎপাদনে ঘাটতি হবে না। আর ঠিক এইসব হিসেব মাথায় রেখেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী “বিকল্প চাষে” অসম্ভব গুরুত্ব দিচ্ছেন। মানুষ যেন খাদ্যের সমস্যায় না ভোগে তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া এবং দৃঢ় পদক্ষেপ। পাশাপাশি, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা এবং পৌষ্টিক মিশন প্রকল্পেও জোর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

News Wave India Desk

Share
Published by
News Wave India Desk

This website uses cookies.