নিউজ

নগরোন্নয়নে ‘ডবল ইঞ্জিন’ গতি, ৯ নতুন পুরসভার উদ্যোগ

Published by
News Wave India Desk
Share it

শ্যামল মুখোপাধ্যায়: কল্লোলিনী তিলোত্তমা নামে খ্যাত এই আন্তর্জাতিক শহর কলকাতা এবং রাজ্যের ছোট বড় প্রতিটি শহরকে যা চকচকে করে গড়ে তুলতে বদ্ধকরিকর রাজ্যের শক্তিশালী বিজেপি সরকার। তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কন্ঠে। রাজ্য বিধানসভায় তার পেশ করা ২০২৬-২০২৭ অর্থিক বছরের ব্যায় বরাদ্দ পেশ করতে গিয়ে মন্ত্রী অগ্রিমিত্র পাল  যা বলেছেন, তাতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে রাজ্যের ১১৮টি পুরসভা, ৭টি  পুর কর্পোরেশন, ৩টি নোটিফাইড এরিয়া অথরিটি এবং ৩টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ অথরিটির এবং শহরের আশপাশের বহু উপনগর অঞ্চলের সার্বিক বিকাশে একযোগে কাজে নামার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, জয়গাঁও, কোলাঘাট, বাগনান, কামারপুকুর, টুঙ্গি দীঘি, শিব মন্দির, গাজোল, চাচোঁল এবং বেলদা – এই ৯টি নতুন পুরসভা গঠনেও তৎপর হয়েছে রাজ্য। রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ করে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এই নতুন ৯টি পুরসভা গঠনের ঘোষণায় উল্লেখিত শহরগুলিতে খুশির জোয়ার বয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রেরই খবর। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা, “আমরা পরিছন্ন, পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু স্থিতিশীল, এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ নগরকেন্দ্র গড়ে তুলব।” তাঁর কথায়, “আঞ্চলিক পৌরসংস্থাগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। পৌর প্রশাসনের আধুনিকীকরণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। উন্নয়নের সুফল বড় শহরের পাশাপাশি ছোট মাঝারি শহর গুলিতে পৌঁছে দেওয়া হবে।”

২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষে নগর রূপান্তরের জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর ১০টি মূল স্তম্ভ নির্ধারণ করেছে। (এক) স্বচ্ছ ও জবাবদিহি মূলক পৌর প্রশাসন, (দুই) বৈজ্ঞানিক কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা হবে। (তিন) সার্বজনীন ও নির্ভরযোগ্য নগর পানীয় জল সরবরাহ করা। (চার) নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসন। (পাঁচ) সাশ্রয়ী আবাসন এবং শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। (ছয়) উপনগর এবং নবগঠিত নগর এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন। (সাত) জলবায়ু স্থিতিশীল ও পরিবেশবান্ধব নগর পরিকাঠামো গড়ে তোলা। (আট) ডিজিটাল পরিষেবা প্রদান এবং নাগরিকদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি। (নয়) শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকার সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা। (দশ) প্রকল্প ধরে সরকারি কর্মসূচির ফলাফল ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। বিভাগীয় মন্ত্রী কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, “অতীতে অনেক প্রকল্পে বিলম্ব, সমন্বয়ের অভাব, দুর্বল পর্যবেক্ষণ এবং পুরস্তরে পর্যাপ্ত দায়িত্ববোধের অভাব কাঙ্খিত ফল দিতে পারেনি। বর্তমান সরকার কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে কোনও কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেবে না।”

নগর, উপনগর, ছোট বড় প্রতিটি শহরের ব্যাপক উন্নয়নে অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছে বিপুল পরিমাণে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে ব্যয় বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে ১৪,৬৬৯,৮০,৯৯,০০০ (চৌদ্দ হাজার ছয়শো উনসত্তর কোটি আশি লক্ষ নিরানব্বই হাজার টাকা)।  বিপুল পরিমাণ এই অর্থে ব্যাপকভাবে সার্বিক উন্নয়নের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে যে অসুবিধা হবেই না, এ বিষয়ে স্পষ্ট মতামত জানিয়েছেন বিভাগীয় কর্তারাই। রাজনৈতিক সংবাদদাতা হিসেবে দীর্ঘ বছরগুলিতে রাজ্য বিধানসভায় বাজেট নিয়ে খবরা-খবর লেখার সুবাদেই নিশ্চিতভাবে লিখতে পারি এবং নগরোন্নয়নের সার্বিক উন্নয়নে বিরাট অংকের এই অর্থ অনুমোদিত হওয়ার কাজ এগোবে ঝড়ের গতিতে। দফতরের পদস্থ আধিকারিকদের মতামত একই।

বাজেট করার সূত্র ধরেই বিভাগীয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অগ্রিম জানিয়ে দিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষেই “অম্রুত”( এ এম আর ইউ টি) প্রকল্পের অধীনে পরিশিষ্ট চারটি জল সরবরাহ প্রকল্প এবং “অম্রুত-২”-এর অধীনে ২০টি নতুন জল সরবরাহ প্রকল্প চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ২.৬১ লক্ষ নতুন গৃহস্থালীতে  জলসংযোগ দেওয়া যাবে। সব মিলিয়ে খরচ হবে ৪.০০১ কোটি টাকা। এই খরচ অবশ্যই রাজ্য সরকার একা করবে না। এর মধ্যে ভারত সরকার দেবে ১.৫১ কোটি টাকা। রাজ্যের অংশ ২,৪৯০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (নগর)-সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ডবল ইঞ্জিন সরকারের মাথা কেন্দ্রীয় সরকারও ঢেলে অর্থ সাহায্য যে করছে রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিভাগীয় মন্ত্রীরাও দরাজ কণ্ঠে স্বীকার করছেন। তাঁদের কথাতেই এই স্পষ্ট ধারণা মানুষের।

দ্বিধাহীন কন্ঠে বিভাগীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এখনই নীচে উল্লিখিত কর্মসূচিগুলিকে অগ্রাধিকার দেবে। (১) সবুজ নগর পরিষদ সৃষ্টি (২) জলাশয়গুলির পুনরুজ্জীবন (৩) নগর  বনায়ন (আরবান ফরেস্ট্রি) (৪) সৌরশক্তির ব্যবহার (৫) পি ভি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন (৬) এলইডি রাস্তার আলো (৭) শক্তি সাশ্রয়ী পুর পরিকাঠামো গড়ে তোলা। একইসঙ্গে নিকাশি ব্যবস্থাতেও ভীষণভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দার্জিলিং পাহাড় এলাকায় উন্নয়নেও একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে চলতি অর্থবর্ষের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের বাজেটে।

এখন রাজ্যের শহরবাসী প্রকল্পগুলির সঠিক রুপায়ন এবং নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে বিশেষভাবে অপেক্ষায় থাকবেন এটা বলা বাহুল্য মাত্র। অপেক্ষায় থাকছেন বিদগ্ধ মহলও।

Share it
News Wave India Desk

Share
Published by
News Wave India Desk

This website uses cookies.