Share it

নিউজ ওয়েভ ইন্ডিয়া: হাওড়া কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে ১১ মে থেকে শুরু হল ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ কৃষি প্রশিক্ষণ শিবির ‘সার্টিফিকেট কোর্স অন ইন্টিগ্রেটেড নিউট্রেন্ট ম্যানেজমেন্ট’। ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এফএআই)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কাছে কর্মসংস্থানের এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের শংসাপত্র প্রদান করা হবে, যার ভিত্তিতে সার বিক্রির লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ মিলবে।

শুধুমাত্র লাইসেন্স প্রাপ্তির সুযোগই নয়, এই কোর্সের অন্যতম মূল লক্ষ্য কৃষকদের মধ্যে সুষম ও বৈজ্ঞানিক সার ব্যবহারের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে সেই বার্তা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে মাধ্যমিক পাশ এবং অন্তত ১৮ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অশোক কুমার পাত্র। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিএআর-আটারি কলকাতার নির্দেশক ড. প্রদীপ দে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ শিক্ষা অধিকর্তা অধ্যাপক মানবেন্দ্র রায়, এফএআই-এর রিজিওনাল হেড সুবোধ কুমার সিং, হাওড়া জেলার উপ-কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) ড. অশোক সিট এবং উপ-কৃষি অধিকর্তা (বিশ্বব্যাংক) সন্তোষ কুমার জানা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাওড়া কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রধান ড. কিরণময় বারোই সকল অতিথিকে স্বাগত জানান। তিনি শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের আরও বেশি সংখ্যায় এই কোর্সে যোগদানের আহ্বান জানান এবং বলেন, কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমশ বাড়ছে।

সভাপতির ভাষণে উপাচার্য ড. অশোক কুমার পাত্র জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্য ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই টেকসই কৃষি ব্যবস্থার স্বার্থে সুসংহত ও সুষম পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। কৃষকদের মধ্যে এই সচেতনতা গড়ে তুলতে সমাজের সব স্তরের মানুষের এগিয়ে আসার প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

আইসিএআর-আটারি কলকাতার নির্দেশক ড. প্রদীপ দে বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রাসায়নিক সার ও সার প্রস্তুতির কাঁচামালের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্ক ও পরিকল্পিতভাবে সার ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই যৌথ উদ্যোগেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিনই হাওড়া কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রের ১৭তম বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক। বৈঠকে জেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিকের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্তের অগ্রণী কৃষক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। কৃষিক্ষেত্রের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে বিশদ আলোচনা হয়।

কেন্দ্রের প্রধান ড. কিরণময় বারোই গত এক বছরে কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন। আলোচনা ও মতবিনিময়ের শেষে উপাচার্য ড. অশোক কুমার পাত্রের নির্দেশ ও পরামর্শ অনুযায়ী আগামী বছরের জন্য কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের কর্মপদ্ধতির রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।

Share it