ফুচকাওয়ালা
ছোট্ট মেয়েটি এক স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। আর তার এই স্বপ্নের আধার ‘ফুচকা’। একজন ফুচকা বিক্রেতা হিসেবে সে নিজের স্বপ্ন ফেরি করছে। জ্যোতির্ময়ী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবতি। এতদিনে সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটে প্রায় সবাই জেনে গেছেন মেয়েটির পরিচয়। জ্যোতির্ময়ী তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন News Wave India-কেও।
শুনুন জ্য়োতির্ময়ীর বক্তব্য:
তখন বিকেল। সাইনবোর্ডে ‘ফুচকাওয়ালা’ লেখা দোকানটাতে প্রচন্ড ভীড় ক্রেতাদের। কেউ চাইছেন, চিকেন ফুচকা, কেউ আইসক্রিম ফ্লেভার, কেউ চকোলেট আবার কেউ চিংড়ির। দুরন্ত গতিতে হাত চলছে জ্যোতির্ময়ীর। তারসঙ্গেই News Wave India-এর প্রতিনিধিকে জানালেন, “গতবছর লকডাউনের সময় একটি প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা করছিলাম। দাদা একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। লকডাউনের সময় তাঁর বেতন অনেকটাই কমে যায়। তখন প্রবল অর্থসংকটের মুখে পড়ে গোটা পরিবার। বাবার একটি মুদিখানা দোকান ছিল। কিন্তু, সেটি সেরকম চলত না। তাই আয়ও হত না। এই পরিস্থিতিতে আমার B.Tech করে বড় সংস্থায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার লক্ষ্য ধাক্কা খায়। সেইসময় আমি আর দাদা ভাবতে থাকি কী করা যায়।”
এই ভাবনা থেকেই ফুচকা তৈরির কথা মাথায় আসে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্ময়ী। ব্যস্ততার ফাঁকে বলতে থাকে, “প্রথমে বাবার তরফে আপত্তি থাকলেও মা পাশে ছিলেন। ফুচকা বিক্রি করব শুনে অনেকেই টিকা টিপ্পনী করতে ছাড়েননি। কিন্তু, আমরা তাতে কর্ণপাত করিনি। গতবছর অক্টোবরে দোকানটি শুরু করেছিলাম। ভালোই রোজগার হতে শুরু করে। আমরা অনলাইনেও ফুচকা ডেলিভারি করি। তাতে অনেক সাড়া পাই।”
এই মুহূর্তে কত রকমের ফুচকা পাওয়া যায় তাঁর দোকানে? প্রশ্ন শুনেই গড়গড়িয়ে বলতে থাকেন জ্যোতির্ময়ী। “প্রথমে সাত রকমের ফুচকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন ১০ রকমের ফুচকা বিক্রি করি আমরা। এরসঙ্গে যোগ করেছি স্যান্ডউইচ, চকোলেট শেক।”
তবে ফুচকা নিয়ে আগামীদিনে বড় ভাবনা থাকলেও পড়াশোনার রাস্তা থেকে সরে যেতে চান না জ্যোতির্ময়ী। News Wave India-কে তিনি জানান, “পড়াশোনার জন্যই তো এতকিছু। সুতরাং পড়া চালিয়ে যাব। তারসঙ্গেই ‘ফুচকাওয়ালা’ নিয়েও আগামীদিনে অনেক পরিকল্পনা আছে।”
মেন রোড থেকে বেশ কিছুটা ভেতরে। একটা সরু গলিতে দোকান ‘ফুচকাওয়ালা’। ঝকঝকে সাইনবোর্ড ঝুলছে দোকানের সামনে। এখন ব্যবসা একটি ভালো চলায় দোকানে লাগানো হয়েছে LED আলো। বসার ব্যবস্থাও রয়েছে। রয়েছে ‘টেক অ্যাওয়ে’ ব্যবস্থাও। জ্য়োতির্ময়ী ও তাঁর দাদা আবারও প্রমাণ করে দিলেন, স্বপ্ন কখনও মরে না। শুধু বুকের ভিতর তাকে সযত্নে লালন করে যেতে হয়। আর তাতেই সাফল্য ধরা দেয় হাতের মুঠোয়।
রিপোর্টার- রনজিৎ দাস, নিউজ ওয়েভ ইন্ডিয়া
This website uses cookies.